EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ার অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়েছে, যা সপ্তাহের শুরুর দিকে বুলিশ ট্রেডারদের সকল প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোর
শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ার অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়েছে, যা সপ্তাহের শুরুর দিকে বুলিশ ট্রেডারদের সকল প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোর মূল্য প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি লেনদেন করছে এবং মার্কেটে একটি স্থিতিশীল বটম লেভেল খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা এখনও মনে করি যে, ইউরোর সাম্প্রতিক এই দরপতন অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন—এটি অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ট্রেডারদের এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই যে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে তা নয়, বরং মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়াটিও কেবল ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অথচ শুক্রবার ট্রেডাররা যেন আবারও এসব বিষয় ভুলে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, জার্মানির একটি মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনই ইউরোর তীব্র দরপতন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, জার্মানি ও ইউরোজোনের জিডিপি প্রতিবেদনের বেশ ইতিবাচক ফলাফল পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে—যা গত দুই মাসের প্রবণতা অনুযায়ী বেশ পরিচিত দৃশ্য। সুতরাং, সোমবার ইউরোর মূল্য সর্বনিম্ন লেভেলেই রয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গঠিত 1.1114 থেকে 1.1267-এর মধ্যে একটি বিস্তৃত রেঞ্জের মধ্যেই অবস্থান করছে। ঘণ্টাভিত্তিক চার্ট বিবেচনা করলে এই রেঞ্জটি বেশ বড় মনে হতে পারে, তবে আরও গভীর দরপতনের চেয়ে ইউরোর ক্ষেত্রে এটি অনেক ভালো একটি পরিস্থিতি।

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যা কাজে লাগিয়ে নতুন ট্রেডাররাও সহজেই মুনাফা অর্জন করতে পারতেন। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218-এর রেজিস্ট্যান্স এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং দিন শেষে প্রায় 30 পিপস দরপতন ঘটে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে, যদিও সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে; সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোর মূল্যের কার্যকর কোনো কারেকশন হতে দেখা যায়নি, তবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে নতুন করে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1104–1.1114-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1104–1.1114, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। সোমবারের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং সূচক প্রকাশিত হবে; অন্যান্য প্রতিবেদনগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।